অ্যামচ্যামের উদ্বেগ

শুল্ক ঝুঁকির মুখে আটলান্টিক অঞ্চলের বাণিজ্য

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপে ঝুঁকির মুখে পড়ছে বার্ষিক ৯ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন বা ৯ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার মূল্যের বাণিজ্য।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপে ঝুঁকির মুখে পড়ছে বার্ষিক ৯ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন বা ৯ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার মূল্যের বাণিজ্য। গতকাল ইইউকে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচ্যাম)। খবর রয়টার্স।

ইইউতে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের সদস্য সংখ্যা ১৬০টি। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাপল, এক্সনমবিল ও ভিসার মতো বিভিন্ন খাতের জায়ান্ট কোম্পানি। সংগঠনটি ট্রান্স-আটলান্টিক অঞ্চলের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৪ সালে অঞ্চলটিতে পণ্য ও সেবা খাতে ২ লাখ কোটি ডলার মূল্যের বাণিজ্য হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল হতে পারে। এ সম্পর্কের মধ্যে যেমন সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনই কিছু চ্যালেঞ্জও আসতে পারে।

গত সপ্তাহে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। সেই সঙ্গে ইউরোপীয় পানীয়ের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর প্রতিক্রিয়ায় প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনাও জানিয়ে দিয়েছে ইইউ।

বেশ আগে থেকেই ইইউর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতির বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও সেবা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বৃত্ত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইউরোপ থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা খোলারও আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প।

এ বিষয়ে অ্যামচ্যাম জানিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে পণ্য ও সেবার বাণিজ্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো দুই অঞ্চলের মধ্যে হওয়া বিনিয়োগ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেদের মধ্যে বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ করে, যা তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্কের শক্তি ও গভীরতাকে আরো বাড়িয়ে তোলে।

প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে সরাসরি বাণিজ্যের তুলনায় তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা বাণিজ্য অনেক বড়। ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর বাণিজ্য মার্কিন রফতানির চেয়ে চার গুণ বেশি। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ইইউর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর বাণিজ্য ইউরোপীয় রফতানির তুলনায় তিন গুণ বেশি। বাণিজ্যিক সংঘর্ষের ঢেউ এ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে সতর্ক করেছে অ্যামচ্যাম।

এদিকে গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার জানিয়েছেন, ২ এপ্রিল থেকে বিদেশী পণ্যের ওপর ব্যাপক রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পারস্পরিক শুল্ক ও খাত নির্দিষ্ট অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে, উভয় প্রকার শুল্কই আরোপ করা হবে।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘তারা আমাদের ওপর শুল্ক আরোপ করে এবং আমরাও তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করছি। এর সঙ্গে গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্ক যুক্ত হবে।’

আরও